খানজাহান আলীর মাজারের দিঘির কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত

মাজার


নতুন খবর প্রতিবেদক: 

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি কুমিরের আক্রমণে ৭-৮ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার সংরক্ষিত মহিলা ঘাট এলাকা থেকে ফাতেমা নামে এক শিশুকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে দিঘির পূর্ব পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে প্রায় দুই মাস আগে একই কুমির একটি কুকুরকেও আক্রমণ করেছিল।

কেন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে কুমির?

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, কুমির স্বভাবগতভাবেই শিকারি ও আক্রমণাত্মক প্রাণী। তবে সীমিত পরিবেশে দীর্ঘদিন বসবাস, নিজস্ব এলাকা রক্ষার প্রবণতা এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি তাদের আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

মাজারের দিঘিতে বর্তমানে টিকে আছে মাত্র একটি কুমির। এটি ২০০৪ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে আনা ছয়টি মিঠাপানির কুমিরের শেষ জীবিত সদস্য। খানজাহান আলী আমলের কুমিরের বংশধারা ২০১৫ সালে ‘ধলা পাহাড়’ নামের শেষ কুমিরটির মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হয়।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, জননিরাপত্তার স্বার্থে দিঘির একমাত্র কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments