সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন পুলিশ সদস্যকে ‘জনস্বার্থে’ একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে এমন বড় ধরনের রদবদল ও শুদ্ধি অভিযান স্বাভাবিকভাবেই আজ সারা দেশে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিগত চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং প্রশাসনে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে মৌলিক দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত, তা গত কয়েক বছরে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। অতি-রাজনৈতিকীকরণ, দলীয় প্রভাব ও এক শ্রেণির কর্মকর্তার ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ এই বাহিনীর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। বর্তমান সরকার শাসনভার গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর কথা বলে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই বাধ্যতামূলক অবসরকে একটি বড় 'শুদ্ধি অভিযান' হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। অপরাধ বা দলীয় লেজুড়বৃত্তির সঙ্গে জড়িতদের সরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এটি যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রূপ না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
শুধু কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানোই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। পুলিশ বাহিনীকে প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এর প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত আমূল সংস্কার প্রয়োজন। নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা ও পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা আশা করি, এই শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত হবে। একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পেশাদার ও আস্থাশীল পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

0 Comments