নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বিএনপিকে লক্ষ্য করে প্রতীকীভাবে চার ধরনের ‘কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী কার্ড’, ছাত্রদলকে ‘চাঁদাবাজি কার্ড’, যুবদলকে ‘দখলবাজি কার্ড’ এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ‘সমন্বিত লাল কার্ড’ দেওয়া হবে।
আজ বুধবার বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ শেষে শাপলা চত্বরে আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।
পদযাত্রাটি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুড়িগ্রাম কলেজ মোড় (জুলাই চত্বর) থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত জনসভা সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেষ হয়। কর্মসূচি বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর পদযাত্রা শুরু হয়।
সমাবেশে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বিএনপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে বলেন, ৫ আগস্টের পর মানুষ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলমুক্ত একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বিএনপি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি বিভিন্ন খাতে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, দেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে রাজনৈতিকভাবে তার ‘পাখনা ভেঙে যাবে’। তিনি বলেন, তারেক রহমান দেশের মানুষের সঙ্গে ছলচাতুরী শুরু করেছেন। শেখ হাসিনার আসন আরও চেয়েও বেশি ছিল। ২০০ আসন পেয়ে তারেক রহমানের পাখা গজিয়েছে। তিনি আকাশে উড়ছেন। আমরা বলে দিতে চাই, বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে সেই পাখা ভেঙে মাটিতে পড়ে যাবেন।
বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এক নম্বরে সন্ত্রাসী কার্ড বিএনপিকে, দুই নম্বরে চাঁদাবাজি কার্ড ছাত্রদলকে, তিন নম্বরে দখলবাজি কার্ড যুবদলকে এবং চার নম্বরে সমন্বিত লাল কার্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে।’
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে প্রবাসীরা আবারও রেমিট্যান্স বন্ধ করতে পারেন, শ্রমিকেরা কর্মবিরতিতে যেতে পারেন এবং তরুণেরা রাজপথে আন্দোলনে নামতে পারেন। তিনি দাবি করেন, সংস্কার ছাড়া দেশের ভবিষ্যৎ নেই।
সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্য এবং মাদক কারবারিদের যোগসাজশে মাদকের বিস্তার ঘটছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে তিনি হজযাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় কমানোর উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নৈতিক স্খলনের অভিযোগে এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করায় জামায়াতে ইসলামীকেও ধন্যবাদ জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ এবং জেলা নেতারা। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা সদস্যসচিব মাসুম মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ও মিডিয়া সেলপ্রধান রাশেদুজ্জামান তাওহীদ।

0 Comments