ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষায় ১,৭০০ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

 


জেলা প্রতিনিধি

ব্রহ্মপুত্র নদের তীর রক্ষায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, 'জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হবে। আর স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে ব্লক দিয়ে তীর সংরক্ষণের কাজ করা হবে।'

আজ শনিবার(৮ আগস্ট) সকাল ১১ টায় কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দর ও কাঁচকোল এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর একটি প্রায় ৯০০ কোটি টাকা এবং অন্যটি প্রায় ৮০০ কোটি টাকার। এসব প্রকল্পে ব্লক ব্যবহার করে স্থায়ী কাজ করা হবে। ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে এই অঞ্চলের মানুষ মুক্তি পাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার চায় না একটি ঘরবাড়িও নদীতে বিলীন হোক। এ জন্য বন্যার আগেই জরুরি কাজ শুরু করা হয়েছে।’ তিনি জানান, প্রয়োজন হলে আরও জরুরি প্রকল্প নেওয়া হবে।।

সরকারের পাঁচ মাসের মেয়াদ নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হামার সরকারের মেয়াদ কেবল পাঁচ মাস। বিগত ১৭ বছরে ওমরা (আওয়ামিলীগ) দেশটা শেষ করে দিয়ে গেছে। পাঁচ মাসে কী সব সংস্কার করা যায়?’ তিনি প্রশ্ন করেন।


‘১০০ বস্তা ফেলবেন, ২০০টা গুনবেন, সেই সুযোগ নেই’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, কাজের মান ও পরিমাণের বিষয়ে এখন থেকে কঠোর নজরদারি থাকবে। তিনি বলেন, ‘নদীতে বস্তা ফেলবেন ১০০টা আর গুনবেন ২০০টা, সেই সুযোগ আর নেই। বস্তার ওজন কমানোরও সুযোগ নেই। ৭৫ কেজির বস্তায় ৬০ কেজি বালু দিয়ে ডাম্পিং করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, এসব কাজ জনগণের টাকায় হচ্ছে। প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের ওপর সবকিছু ছেড়ে না দিয়ে কাজের হিসাব বুঝে নিতে স্থানীয় মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।


তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু করা হবে জানিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘বিএনপি সরকার মাত্র পাঁচ মাস আগে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আমাদের টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করেছে। দেশের বাইরেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমরা পরামর্শ করেছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প শুরু করা হবে।’


তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি প্রকল্পের কাজ শুধু শুরু করলেই হয় না। এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই চিন্তা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সম্মতি দিয়েছেন, আমিও কথা দিচ্ছি, আমাদের সময় দেন। আমরা অতি দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করব।


আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে চিলমারী উপজেলার রমনা নৌঘাটে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী। পরে চিলমারী নদীবন্দর ও কাঁচকোল এলাকা পরিদর্শন শেষে নৌপথে উলিপুরের নামাজের চর, রৌমারীর সুখেরবাতি ও রাজিবপুরের কোদালকাটি এলাকা পরিদর্শনে যান। ব্রহ্মপুত্র নদের এসব ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রীর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার জিগাবাড়ী ও উড়িয়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর তীর এবং ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম’ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।

এ সময় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments