চিলমারী নদীবন্দরের অনিয়ম নিয়ে এমপির ক্ষোভ, ভিডিও ভাইরাল



নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুড়িগ্রামের চিলমারী নদীবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান। বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে বন্দর কর্মকর্তার সাথে ৭ মিনিট ১০ সেকেন্ড কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে চিলমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে চিলমারী নদীবন্দরে উপস্থিত হন সংসদ সদস্য। সেখানে নদীবন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা পুতুল চন্দ্র-এর উপস্থিতিতে তিনি নদীবন্দরের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু পোর্ট কর্মকর্তা সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে আছে। এসময় সংসদ সদস্য বলেন, '৫০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এগুলো কি আপনার চোখে পড়ে না? এ বিষয়ে কখনো প্রতিবাদ করেছেন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন?'

এ ছাড়াও নৌযান থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় এবং মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, এসব বিষয়ে তাঁর কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং তিনি বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করবেন।

তিনি পোর্ট কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনি ওই ঘাটে(রৌমারী পয়েন্টে) যান। ফিরে আসতে পারেন কি না দেখেন। আমি এমপি বলে গেলাম। আমাকে লাগবে না। আমি কোনো নির্দেশও দেব না, কিছুই বলব না। আমি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করি।'


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র প্রথম আলোকে বলেন, 'ভিডিওতে যা দেখেছেন, তাই। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।'

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ অনিয়ম করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। একজন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে এভাবে কথা বলা বলতে পারেন কি না সেটি নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।

চিলমারী উপজেলা জামায়াতের আমির নুর আলম মুকুল বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। ঘাটের ইজারা, খাজনা ও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা এমন স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তা দেখতে পারেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তিনি বলেন, 'আমি বর্তমানে সংসদের একটি কর্মসূচিতে আছি।'

Post a Comment

0 Comments