নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারহানা সুলতানা কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা, সহকর্মীর অসদাচরণ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে দাখিল করা ওই অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে ফারহানা সুলতানা উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি)–সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে তার দিকে মারতে তেড়ে আসেন, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং চাকরি করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সামনেই ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের আচরণ তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে এবং কর্মস্থলে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষক ৭ থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত পূর্বানুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন এবং নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ একটি প্রজেক্টর ও একটি সাউন্ড সিস্টেম হস্তান্তর নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন প্রধান শিক্ষক। তার দাবি, ২০১৯ সালে গ্রহণ করা প্রজেক্টরটি এখনও বিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়নি। ২০২৫ সালে গ্রহণ করা সাউন্ড সিস্টেমও দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়নি; উপজেলা পর্যায়ের তদন্ত চলাকালে সেটি বিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
ফারহানা সুলতানা অভিযোগ করেন, তদন্ত চলাকালে তিনি তার বক্তব্য পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পাননি। তাই বিষয়টির সব দিক বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, যারা ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিনিময় হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সহকারী শিক্ষক অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, যা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।
প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিভিন্নভাবে তাকে সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফারহানা সুলতানা বলেন, "আমি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা চাই না। একজন নারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিরাপদ, সম্মানজনক ও ভয়মুক্ত পরিবেশে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা এবং আমার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।"
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মণ্ডল বলেন, "বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।"
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।"

0 Comments