নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনীতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে কুড়িগ্রামে সমন্বয় সভা হয়েছে।
বুধবার কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের জিআরআইপি প্রকল্পের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি), পুলিশ, আইনজীবী, তরুণ প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ১৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
সভায় নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা, সাইবার হয়রানি, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, সহযোগিতার অভাব, নারীর নেতৃত্ব গ্রহণে অনীহা এবং সহিংসতার বিভিন্ন ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, কোনো নারী শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে তাঁকে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা, আইনগত সহায়তা ও মানসিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, ওসিসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান জরুরি।
সভায় নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারী মেরিনা পারভীন বলেন, রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সাইবার হয়রানি, অর্থনৈতিক সহায়তার অভাব, নারীদের শারীরিকভাবে দুর্বল মনে করা এবং নারীর নেতৃত্ব মেনে না নেওয়ার মতো বাধা রয়েছে। এসব মোকাবিলায় নারীদের জন্য সহযোগিতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করে থাকে। এরপরেও কোন নারী প্রতিনিধি যদি হয়রানির শিকার হয় তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তার পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে।
সভায় অংশগ্রহনকারীদের পক্ষ থেকে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও উৎসাহ বাড়াতে নির্বাচনে নারীদের জামানত বাধ্যতামূলক না করার দাবি জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওসিসি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ওসিসির কার্যক্রম ও সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম দেওয়া হয়।

0 Comments