মামলা না তোলায় গৃহবধূ‌কে হত‌্যার অ‌ভি‌যোগ, অধরা আসামিরা

 

 


জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নিখোঁজের তিনদিন পর গোলাপী খাতুন (২৬) নামে এক গৃহবধূর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে একটি কংক্রিটের ব্লকের খণ্ডিত অংশ বাঁধা ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছেন। তবে মামলা হওয়ার পরও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। মামলা না তোলায় পরিকল্পিতভাবে গোলাপী বেগমকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

জানা গে‌ছে, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের পানিয়া যাদুরচর বিলে আমন ধানের ক্ষেতে কাজ করার সময় স্থানীয় কৃষকরা পানিতে ভাসমান এক‌টি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা সেটি গোলাপী খাতুনকে শনাক্ত করেন।  নিহত গোলাপী বেগম উপজেলার বাওয়াই গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোলাপীর স্বামী ছৈয়দ আলীর সঙ্গে তার মামাতো ভাই মতিন, হাসিনুর, মহর, আছমত, সাহার আলীসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতিতে গোলাপী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় কয়েকজন কারাগারেও ছিলেন।

এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি একাধিক সালিশ বৈঠকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য গোলাপীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তাদের নিজ বাড়িতে উঠতে বাধা দেওয়া হয় এবং বাড়িতে তালাও ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে নিরাপত্তার কারণে তারা স্বামীর বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

নিহতের স্বামী ছৈয়দ আলী অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রতিপক্ষের লোকজন গোলাপীকে বাড়িতে ওঠার কথা বলে ফোনে ডেকে নেয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর তিনদিন পর বিলে স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তিনি।

নিহতের ভাই ও মামলার বাদী বেলাল হোসেন বলেন, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশে পানিতে ফেলে রাখা হয়েছিল। আমি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেছি। কিন্তু এখনো একজন আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়নি। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চল‌ছে।

Post a Comment

0 Comments